
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ওয়ালিদ হোসেন সাব্বির (১৯) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে কোনো ওয়ারেন্ট দেখানো ছাড়াই পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায়। যদিও পুলিশ বলছে, মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বড় চেঙ্গাইন এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাব্বির কাঁচপুর ইউনিয়ন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বাতেনের ছেলে। তাঁর বড় ভাই রাহাত হোসেন অন্তর স্থানীয় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
সাব্বিরের বড় বোন শম্পা আক্তার বলেন, তাঁদের বাবা ও বড় ভাই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সাব্বিরের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তিনি বলেন, গভীর রাতে পুরো বাড়ি ঘেরাও করে আমার ভাইকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই একজন পরীক্ষার্থীকে এভাবে তুলে নেওয়া কতটা আইনসম্মত, সেটি আমাদের প্রশ্ন।
গ্রেপ্তারের কারণ প্রসঙ্গে শম্পা আক্তার দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সাব্বির বন্ধু ও বড় ভাইদের সঙ্গে কেক কাটেন। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ভিডিওটি দেখিয়ে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় পুলিশের মাধ্যমে তাঁর ভাইকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁর জানা নেই। তবে সাব্বির গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুনেছেন। তিনি বলেন, সাব্বিরের মা ও বড় বোন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি যতটুকু জেনেছি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কাটার বিষয়টি সামনে আসার পর কেউ হয়তো তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আবেগের বশে কেক কেটেছে, তাই বলে ধরিয়ে দেওয়া উচিত হয়নি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, সোনারগাঁয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাব্বিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে সাব্বিরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply