1. admin@dailygrambangla.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত- ১০ শহীদ জিয়ার স্বরণে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহায়তায় যুবদল নেতার ভ্যানগাড়ি প্রদান মাদক নির্মূলে খেলার মাঠই বড় শক্তি: সোনারগাঁয়ে এমপি মান্নান সোনারগাঁয়ে মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন দুই মাদক ব্যবসায়ী ধামগড়ে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার, এলাকাবাসীর প্রশংসায় মেম্বার প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ধামগড়ে গকুলদাসের বাগ কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোমেন ভূঁইয়া সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নানা স্থানে গর্ত-খানাখন্দ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সোনারগাঁয়ে মাদক বিরোধী র‌্যালী করায় যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম আন্তঃজেলা নদীতে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, কারণ অনুসন্ধানের দাবি সোনারগাঁয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

পল্লবীতে ‘ভইরা দে’ গ্যাংয়ের ত্রাস: নেপথ্যে থানা লুটের অস্ত্র ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়

  • আপডেট : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

​রাজধানীর পল্লবী এলাকায় মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভইরা দে’ নামক একটি সন্ত্রাসী গ্যাং। সম্প্রতি এই গ্রুপের একজন সদস্যের ফাঁস করা চাঞ্চল্যকর তথ্যে বেরিয়ে এসেছে গ্রুপটির ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী। থানা লুটের অস্ত্র দিয়ে জনমনে ত্রাস সৃষ্টি, সাংবাদিকের পরিবারে হামলা এবং মাদক-চাঁদাবাজির মাধ্যমে পুরো এলাকা জিম্মি করে রেখেছে আশিক ও তার বাহিনী।

​পারিবারিক সূত্রে উত্থান ও রাজনৈতিক ভোলবদল​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই গ্যাংয়ের প্রধান আশিকের বাবা খালিকুজ্জামান ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতা। বাবার রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গত আওয়ামী শাসন আমলে আশিক ছাত্রলীগে সক্রিয় হয়। ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় থেকেই সে ধীরে ধীরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় এবং গড়ে তোলে ‘ভইরা দে’ নামক এই দুর্ধর্ষ গ্যাং। বর্তমানে এই গ্রুপে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন সশস্ত্র সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

​‘বড় ভাই’ ও ‘ছোট ভাই’ কোডনেমে থানা লুটের অস্ত্র ​সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পল্লবী থানা থেকে লুট হওয়া অন্তত তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র এখন আশিকের কব্জায়। গ্রুপটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই অস্ত্রগুলোকে তারা বিশেষ কোডনেমে ডাকে। বড় অস্ত্রকে বলা হয় ‘বড় ভাই’ এবং ছোট পিস্তলকে বলা হয় ‘ছোট ভাই’। কোনো অপরাধ সংঘটনের আগে তারা প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়— “বড় ভাইরে নিয়া আয়” অথবা “ছোট ভাইরে বের কর”। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায়ই তাদের এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়।

​সাংবাদিকের পরিবারে হামলা ও হুমকি ​সর্বশেষ গত ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবসের দুপুরে পল্লবীতে কর্মরত ‘বাংলা টিভি’র রিপোর্টার প্রান্ত পারভেজের পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় আশিক বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আশিক বাহিনী সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের মারধর করছে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যাওয়ার সময় তারা পাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশিক ও তার ভাই আতিকের (যিনি একজন চিহ্নিত মোবাইল চোর) বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তারা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরও রহস্যজনকভাবে দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনের আগে কোনো বিশেষ মহলের হয়ে ‘ক্লিন মিশন’ বা বড় কোনো নাশকতার ছক আঁকছে এই গ্রুপটি।

​এলাকাবাসীর দাবি, ​পল্লবীর সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সন্ত্রাসীদের এখনই আইনের আওতায় না আনলে পল্লবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।” কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা, এমনকি ‘এনকাউন্টার’ বা ‘ক্রসফায়ারের’ মাধ্যমে এলাকাকে শান্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

​বর্তমানে সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় পল্লবী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © দেশ প্রকাশ ©
Theme Customized By Shakil IT Park