
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভইরা দে’ নামক একটি সন্ত্রাসী গ্যাং। সম্প্রতি এই গ্রুপের একজন সদস্যের ফাঁস করা চাঞ্চল্যকর তথ্যে বেরিয়ে এসেছে গ্রুপটির ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী। থানা লুটের অস্ত্র দিয়ে জনমনে ত্রাস সৃষ্টি, সাংবাদিকের পরিবারে হামলা এবং মাদক-চাঁদাবাজির মাধ্যমে পুরো এলাকা জিম্মি করে রেখেছে আশিক ও তার বাহিনী।
পারিবারিক সূত্রে উত্থান ও রাজনৈতিক ভোলবদলঅনুসন্ধানে জানা যায়, এই গ্যাংয়ের প্রধান আশিকের বাবা খালিকুজ্জামান ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতা। বাবার রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গত আওয়ামী শাসন আমলে আশিক ছাত্রলীগে সক্রিয় হয়। ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় থেকেই সে ধীরে ধীরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় এবং গড়ে তোলে ‘ভইরা দে’ নামক এই দুর্ধর্ষ গ্যাং। বর্তমানে এই গ্রুপে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন সশস্ত্র সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
‘বড় ভাই’ ও ‘ছোট ভাই’ কোডনেমে থানা লুটের অস্ত্র সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পল্লবী থানা থেকে লুট হওয়া অন্তত তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র এখন আশিকের কব্জায়। গ্রুপটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই অস্ত্রগুলোকে তারা বিশেষ কোডনেমে ডাকে। বড় অস্ত্রকে বলা হয় ‘বড় ভাই’ এবং ছোট পিস্তলকে বলা হয় ‘ছোট ভাই’। কোনো অপরাধ সংঘটনের আগে তারা প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়— “বড় ভাইরে নিয়া আয়” অথবা “ছোট ভাইরে বের কর”। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায়ই তাদের এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়।
সাংবাদিকের পরিবারে হামলা ও হুমকি সর্বশেষ গত ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবসের দুপুরে পল্লবীতে কর্মরত ‘বাংলা টিভি’র রিপোর্টার প্রান্ত পারভেজের পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় আশিক বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আশিক বাহিনী সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের মারধর করছে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যাওয়ার সময় তারা পাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশিক ও তার ভাই আতিকের (যিনি একজন চিহ্নিত মোবাইল চোর) বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তারা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরও রহস্যজনকভাবে দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনের আগে কোনো বিশেষ মহলের হয়ে ‘ক্লিন মিশন’ বা বড় কোনো নাশকতার ছক আঁকছে এই গ্রুপটি।
এলাকাবাসীর দাবি, পল্লবীর সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সন্ত্রাসীদের এখনই আইনের আওতায় না আনলে পল্লবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।” কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা, এমনকি ‘এনকাউন্টার’ বা ‘ক্রসফায়ারের’ মাধ্যমে এলাকাকে শান্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় পল্লবী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply