
হৃদয় হোসাইন,পাবনা সংবাদদাতা:
পাবনার বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদী,হাওর,বিল-ঝিল,পুকুর-জলাশয়ে প্রতি বছর শীতকাল এলেই দেখা মিলে। নানা প্রজাতির নাম জানা,না জানা অনেক পাখির। এদের আমরা অতিথি পাখি বলি। এ পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে আসে জীবনের তাগিদে। সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দলবেঁধে আসতে শুরু করে এসব পাখি। মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত কলকাকলিতে আমাদের প্রকৃতি ভরিয়ে রাখে। বেড়া উপজেলায় ছোট-বড় অনেক গুলো নদী-নালা-খাল-বিল জলাশয় রয়েছে।উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে কাজল কোলের বিল অবস্থিত। বর্ষামৌসুমে ফসলি জমিগুলো তলিয়ে বিলে রুপান্তরিত হয়।চাকলা,নলভাঙ্গা,বড়শিলা,বাঙ্গাবাড়িয়া,জোরদাহসহ কয়েকটি গ্রাম মিলে কাজল কোলের বিলের অবস্থান। শুকনা মৌসুমে এই বিলে পানি থাকে না। এসময় এখানে বিভিন্ন ধরনে ফসল ফলানো হয়। বর্ষা মৌসুমে এই বিল পানিতে ভরে যায়। বিলের বেশির ভাগ জায়গায় ধানের চাষ করা হয়। বিভিন্ন দেশী জাতীয় মাছ পাওয়া যায়। শীতের সময় পানি কমে যায় এবং সে সময়ের কচিপাতা,শামুক,পাকা ধান,পোকামাকড়, পোনা জাতীয় মাছ,ঝিনুকসহ কিছু উপাদান এসব পাখির প্রিয় খাবার। পাখিদের খাদ্য অভাব পূরণ করে। কাজল কোলের এ বিলে খাদ্য চাহিদা মিটাতে দেশীয় প্রজাতির পাখিসহ অতিথি পাখিও দেখা যায়। বেঁচে থাকার একটি উপযোগী এলাকা হিসাবে এসব পাখি এ অঞ্চলে আসে। এ সময়টায় কিছু অসাধু চোরাকারবারি ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। রয়েছে শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারিও। যারা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। আবার শীতের সময় পাখি শিকার কারও কারও পেশাও। পেশা হিসেবে যারা নেয়,তারাই অতিথি পাখির জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর। ফলে অতিথি পাখি নিরাপদে কোথাও বসতে পারে না। মৌসুমের আগেই পাখি রক্ষা,পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন অনেকে। কয়েকজন সচেতন ব্যাক্তির সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছর শীতের সকালে কিছু অসাধু লোক ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করেন। শিকার করা পাখি গুলো তারা স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে। শীতের পুরোটা সময় চলে তাদের শিকার। ব্যাপকহারে পাখি শিকার ও জলাভূমির সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রতি বছরই পাখির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি। এ ক্ষতি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। স্থানীয় লোকজনের সচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই পাখি শিকার বন্ধ করা যাবে না। পাখি শিকার বা হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্য প্রাণী ও অতিথি পাখি সংরক্ষণের জন্য দেশে অনেক আগে থেকেই আইন রয়েছে,১৯৭৪ সালের বন্য প্রাণী রক্ষা আইন এবং ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছরের জেল,১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে। আইন অনুযায়ী পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। কাজল কোলের বিলে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা খুবই দরকার। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পাখিদের গুরুত্ব অপরিহার্য। তাদের বাসস্থান সংরক্ষণ,খাদ্য সরবরাহ এবং শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে পারলে। কাজল কোলের এ বিলটি হতে পারে পাখিদের অভয়ারণ্য।
Leave a Reply