
হৃদয় হোসাইন,পাবনা সংবাদদাতা:
পাবনার বেড়া উপজেলার কল ঘেঁষে বয়ে চলছে পদ্মা,যমুনা,হুরাসাগর। তিন নদীর মোহনা একত্রিত এলাকার নাম করণ হয়েছে মোহনগঞ্জ। জানা যায়,হাটুরিয়া-নাকালিয়া,নতুনভারেঙ্গা,পুরানভারেঙ্গা,
ঢালারচর,রুপপুর ইউনিয়ন পদ্মা যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত।চরনাকালিয়া,চরসাঁড়াশী,চরপেঁচাকোলা,যমুনারচর,নাগদাহ,চররুপপুর,পৈল্যানপুরসহ কয়েকটি চরের মানুষের উপজেলা শহরে যেতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাই ভরসা। শুকনো মৌসুমে বালুময় পথে গন্তব্যে যেতে হয় ঘোড়ার গাড়িতে অথবা পায়ে হেঁটে। চরের অভ্যন্তরে নৌকা,মৎস্য শিকার,ঘোড়ার গাড়ী,কৃষি হচ্ছে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। এ চর গুলোতে পাঁকা সড়ক নেই। শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে নদী পাড়ে এসে আবার নৌকায় চড়ে ঘাটে নামতে হয়। হাট-বাজারে কাজ শেষ করে আবার নৌকা বাড়ি ফিরতে হয়। নদীতে পানি না থাকলে শুষ্ক মৌসুমে দুর্ভোগ বেশি পোহাতে হয়। নদীতে পানি থাকলে নৌকা নিয়ে অনেকেই বাড়ির কাছে নামতে পারেন। বর্ষার সময়ে যমুনা নদী তার চিরোচেনা রূপ-যৌবন ফিরে পায়,পানিতে তলিয়ে যায় প্রত্যন্ত চরের নিম্নাঞ্চল। এসময় চরবাসীর একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে থাকে নৌকা। তবে শুকনো মৌসুমে যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে ওঠে ঘোড়ার গাড়ি। নৌকার বিকল্প নেই। নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,ক্লিনিক। নেই উচ্চ বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নানা কারণে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যান। ক্লাস শেষ করে আবার ফিরে আসতে হয়। এমন অবস্থায় অনেক শিক্ষক চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে অন আগ্রহ প্রকাশ করেন। জরুরী প্রয়োজন বা অসুস্থ হলে অনুভব হয় নদীপাড়ের জীবন কতটা বৈচিত্র্যময়। চরাঞ্চলের মানুষের কষ্টের কথা কম বেশি সকলের জানা। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচী গ্রহণ করা জরুরি।
Leave a Reply