
নিজস্ব প্রতিনিধি:
অবশিষ্ট তেমন কিছুই নেই ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু’র বাড়ির ভেতরে। দরজা জানালা গ্রিল ইট ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। বাড়িটি এখন বসতহীন পরিত্যক্ত। টুকু পাবনা-১ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর সাবেক প্রতিমন্ত্রী। দুইবারের ডেপুটি স্পিকার। বেড়া পৌরসভাধীন বৃশালিখা এলাকায় দোতলা ভবনের বাড়িটিতে ভেতরে অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। ভাঙচুর,দিনভর লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। নগদ টাকা,সোনা, আসবাপত্র,জরুরি কাগজ-পত্র গাড়ি ভাংচুর করে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।৫ আগস্ট সেদিন বেড়া পৌরসভা ভবন ভাংচুর করে আসবাবপত্র, কম্পিউটার লুট। সরকারি, সাধারণ মানুষের নথিপত্র জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ,মৃত্যু সনদ ছিড়ে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। এমপি পুত্র বেড়া পৌরসভার মেয়র এ্যাড.এস.এম আসিফ শামস্ রঞ্জন এর একক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে আওয়ামী লীগের একাংশ নেতাকর্মী হামলা ভাংচুরে অংশ নেয়। পৌরসভাধীন সানিলা মহল্লায় পাবনা জেলা পরিষদ সদস্য মাসুদ রানা ময়ছারের বাড়ির অবস্থাও একই। দুচালা দুইটি টিনের ঘর ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাতে আধারে কালু মোল্লাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সাঁথিয়া বেড়া,আমিনপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভাংচুর অগ্নি সংযোগ লুটপাট করা হয়। ডেপুটি পুত্র বেড়া পৌরসভার মেয়র আসিফ শামস্ রঞ্জন এর সাঁথিয়ায় গরুর খামার থেকে গরু,মৎস্য খামার থেকে মাছ লুট। বেড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু,সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন,সাবেক বেড়া পৌর ছাত্রলীগ আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাশু,সাঁথিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রুবেল,সাঁথিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল খান সানা,সাঁথিয়া পৌর ছাত্রলীগ সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন আকাশ সহ আরও অনেকের বাড়িতে একই ভাবে ভাংচুর অগ্নি সংযোগ লুটপাট করা হয়।এসবই হয় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর। বিজয়োল্লাসের নামে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে সুকৌশলে এসব করে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজনের ভীড়ে সন্ত্রাসী বাহিনী সি এন্ড বি বাসস্ট্যান্ডে অল্প পুঁজিতে নিরিহ টং ব্যাবসায়িদের শতাধিক টং দোকান ভাংচুর করে মালামাল লুটপাট করে। পরদিন লুটপাট শেষে কয়েকটি টং দোকান দখল নিজেদের দাবি করে। চলে নীরব চাঁদাবাজী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একব্যাক্তি বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতের চলে যাওয়ায় আনন্দ মিছিলের সুযোগ নিয়ে হামলা করে ভাংচুর অগ্নি সংযোগ লুটপাট করে একদল সন্ত্রাসী । যারা পান বিড়ি সিগারেট বিক্রি করে তাদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। অথচ তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। বি এনপির ত্যাগী মূলধারার নেতারা দল কে সুসংগঠিত করতে কাজ করছেন। অপরদিকে অনুপ্রবেশকারীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দখল চাঁদাবাজিতে ব্যাস্ত। আর বি এনপি নেতারা বলেন, ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি ঘরে যারা হামলা করে লুটপাট করেছে তারা আওয়ামী লীগের(বি) গুরুপ নিজেদের রাজনৈতিক গুরু পিং এর কারণে এসব হয়েছে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে।
Leave a Reply