
পাবনা জেলা সংবাদদাতা:
চরমপন্থী জীবন থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেও বাঁচতে পারলো বাকুল মিয়া (৪৫)। ২৪ নভেম্বর রবিবার রাত আনুমানিক ৯টায় তাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের রাউতি উত্তরপাড়া স্কুলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত বাকুল মিয়া উপজেলার রাউতি গ্রামের মো. রওশন আলীর ছেলে। ঘটনার সময় বাকুলের সাথে থাকা ভাতিজা আলেপ হোসেন(২৫) কেও কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, চরমপন্থী জীবন থেকে ফিরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বাকুল। তারপর গ্রামে থেকে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন। রোববার রাতে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন তিনি। এ সময় একই গ্রামের জালাল মাস্টার এসে তাকে জানায় তার ধান নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিতে। তখন ভাতিজা আলেপকে নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ধান নিয়ে জলিল মাস্টারের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাউতি উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তার ওপর পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত বাকুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ভাতিজা আলেপ বাধা দিতে গেলে তাকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আহত আলেপকে উদ্ধার করে সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। কারা, কি কারণে তাকে হত্যা করেছে তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিহত বাকুল আগে চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল বিকেলে পাবনার শহিদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের আইজিপি’র কাছে পাবনাসহ ১৪ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থী নেতা ও সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
Leave a Reply