
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার এবং রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাতের পর রাত নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভাবে কর্মজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ায় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রিজ, কোল্ড স্টোরেজ ও বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা পরিচালনাকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উদ্বেগও বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অন্তত সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (সোনারগাঁ) জোনাল-১-এর ডিজিএম মো. খোরশেদ আলম বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আমাদের চাহিদা প্রায় ১৪৫ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংও কমে আসবে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
Leave a Reply