
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ নদীসহ উপজেলার নদী-খাল সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে নদী-খালের অস্তিত্ব সংকটের কথা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
শুক্রবার ( ২৬ জুন ) সকালে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’-এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, উপদেষ্টা মতিউর রহমান, উদীচী শিল্পগোষ্ঠী সোনারগাঁও শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, লেখক মোয়াজ্জেনুল হক, সাহিত্য নিকেতনের অর্থ সম্পাদক সেলিম আহমেদ প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাখখার সাগর এবং সাংবাদিক এরশাদ হুসাইন অন্য ও কামরুল ইসলাম পাপ্পুসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, একসময় সোনারগাঁও জুড়ে শতাধিক খাল থাকলেও বছরের পর বছর অবৈধ দখল, ভরাট ও পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের কারণে অধিকাংশ খাল আজ বিলীন হওয়ার পথে।
এছাড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বর্জ্য নদী-খালে ফেলায় পানি দূষিত হচ্ছে এবং জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ নদী ও এর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো পুনরুদ্ধারকে সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সোনারগাঁওকে ঘিরে থাকা মেঘনা, শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মধ্যে শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র ইতোমধ্যে দখল ও দূষণের মারাত্মক শিকার হয়েছে। মেঘনা নদী এখনও তুলনামূলকভাবে প্রবাহমান থাকলেও যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এটিও একই সংকটে পড়তে পারে।
সভা থেকে সোনারগাঁওয়ের সকল নদী ও খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, দূষণ রোধ এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
Leave a Reply