
হৃদয় হোসাইন,পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর বাজার এলাকায় বাড়ির ছাদে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও জাদুঘর। জহির সুপারমার্কেটের তিনতলা ভবনের ছাদে। এই চিড়িয়াখানা ও জাদুঘরটি গড়ে তুলেছেন ভবন মালিক জহিরুল ইসলাম। পাগলা বাবা জহির জাদুঘর কৃত্রিম চিড়িয়াখানায়,শুরুতে বাঘ,বানর,হরিণ ময়ূরসহ অন্তত ৫০টি প্রাণীর ভাস্কর্য দিয়ে সাজানো হয়। বর্তমানে এ কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও জাদুঘরে রয়েছে ১৩ ফিট লম্বা জীবন্ত অজগর সাপ,বানর। উপজেলা প্রশাসন এর তালিকায় সাঁথিয়া উপজেলায় কোনো চিড়িয়াখানা নেই। সরেজমিনে দেখা যায়,সেখানে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন রাইডিং। আছে বাঘ, সিংহ, হরিণ, বক, সাপ, উট, হাঙর,শিয়াল, ময়ূর, পেঙ্গুইন, পেঁচা, ডলফিন, মাছরাঙা, ক্যাঙারু, ঈগল,গণ্ডার,শিম্পাঞ্জি, হাতি, ঘোড়া, দুম্বা,জেব্রাসহ অন্তত ৫০টি প্রাণীর ভাস্কর্য। জহিরুলের তিনতলার ফ্ল্যাটের একটি ইউনিট জাদুঘর। সেখানে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরোনো এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। এসবের পাশাপাশি এ চিড়িয়াখানা ও জাদুঘরে নতুন করে রাখা হয়েছে ১৩ ফুট লম্বা একটি জীবন্ত অজগর সাপ ও দুইটি বানর। এলাকাবাসীর কাছে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে সাড়া ফেলেছে জহিরুল ছাদ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এই বিনোদন কেন্দ্র। সেখানে যেতে কোনো টিকিট লাগে না। এই কৃত্রিম চিড়িয়াখানা ও জাদুঘরের উদ্যোক্তা ৭০ বছরের জহিরুল ইসলাম বলেন, যদিও এ সাপ ভয়ংকর,বড় হলে মানুষ গিলে খেতে পারে। সাপটি আমার পোষা। এলাকার কোনো এক গ্রামে তাকে পাওয়া যায়,মেরে ফেলতে চায়। আমি খবর পেয়ে তারাতাড়ি ছুটে গিয়ে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেই। অজগরটি তিন বছর ধরে আমার খামার বাড়িতে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী বিলে জেলেদের জালে আটকা পড়া অজগর সাপটি ৫ হাজার টাকা ক্রয় করেন জহিরুল ইসলাম। আরও জানা যায়,তার কাছে বিলুপ্ত প্রায় একটি গুইসাপ ও রয়েছে যা তিনি ৫ শত টাকায় স্থানীয় এক ব্যাক্তির নিকট থেকে ক্রয় করেন। চিড়িয়াখানায় প্রাণী সংগ্রহ,লালন-পালন,কল্যাণ, চিকিৎসা,প্রজনন,সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ আইন এসব কিছুই মানা হয়নি। অবৈধ ভাবে এসকল বন্য প্রাণী আটক রেখে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। আনুমানিক ১৩ ফুট লম্বা এই অজগর সাপটি উদ্ধার করে উপযুক্ত স্থানে অবমুক্ত করা হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় প্রাণীপ্রেমীরা। এ বিষয় সাঁথিয়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর এর কর্মকর্তা ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ মোঃ ফারুক মিয়া জেলা বন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) রিজু তামান্না অবগত আছেন।
Leave a Reply