
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরকামালদী গ্রামে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা মো. ওয়াজকুরুনীর বিরুদ্ধে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট ও মাদক কারবারে আশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরকামালদী গ্রামের বাসিন্দা জাহান আলীর ছেলে ওয়াজকুরুনী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। জুলাই–আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় নতুন করে দলীয় পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে ওয়াজকুরুনী বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চরকামালদী গ্রামের একটি ব্যাটারি ফ্যাক্টরি থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া, পাশ্ববর্তী চৌড়াপাড়া পাঁচআনি পাড়া গ্রামের রহিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, ওই ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশু লুট করা হয়।
মাদক সংক্রান্ত অভিযোগও গুরুতর। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াজকুরুনী স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্যে আশ্রয় দিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করছেন। চরকামালদী এলাকায় মাদক ব্যবসা বেড়ে যাওয়ার পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি মৎস্য খামারের আড়ালে জুয়ার আসর পরিচালনা, মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয় এবং বহিরাগত লোকজনের আনাগোনায় পুরো এলাকা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
চরকামালদী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওয়াজকুরুনী ও তার সহযোগীরা রাতে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং নারীদের কু-প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অটোরিকশা চুরির অভিযোগ উঠলেও, স্থানীয় ছাত্রদলের এক নিরীহ নেতাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয় নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে সেটি দলের জন্য লজ্জাজনক এবং তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ওয়াজকুরুনীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে গণমাধ্যম কর্মীদের সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কি করতে পারে করার জন্য হুমকি প্রদান করে।
এ বিষয়ে তালতলা ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সেলিম হোসেন জানান, অটোরিকশা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত নাঈম তার বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী প্রদান করেন। কিন্তু এখনো কাগজ না পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছি না। কাগজটি হাতে পেলেই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করবো।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply