
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বালুর মাঠে অবৈধভাবে মেলার আয়োজন করেছে কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ভাই ও ভাতিজা। অনুমোদন ছাড়া এ মেলার আয়োজনের খবরে হতবাক স্থানীয়রা। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমির ছোট ভাই সুমন হক ও ভাতিজা আকাশ হক এ মেলার আয়োজন করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ মেলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাদক ব্যবসা, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যসহ বেআইনী কর্মকান্ড। এসব অবৈধ কর্মকান্ডে মেলা থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। গত শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া মেলায় জুয়ারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে আতংঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবৈধ মেলার কোন প্রকার অনুমতি না থাকলেও মেলার আয়োজক বিএনপি নেতার ভাই দাবি করেন, ইউএনও অফিসে আবেদন করে থানা পুলিশকে অবগত করে এ মেলা বসিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমতি নেই।
জানা যায়, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমির ছোট ভাই সুমন হক ও ভাতিজা আকাশ হক ও মিঠু মিয়া কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে বালুর মাঠে এ মেলার আয়োজন করে। বিজয় মেলার নামে মাসব্যাপী মেলা গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়। মেলায় নাগর দোলা, ইলেকট্রিক নৌকা, পুতুল নাচ, খেলনার দোকান, কসমেটিক্সের দোকান, মুড়ি মুড়কি, ফুচকার দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের শতাধিক দোকানপাট বনিয়েছেন।
মেলায় বসানো খেলনা, কসমেটিক্সের দোকান ও ফুচকার দোকান থেকে প্রতিদিন ৫শ থেকে ১২শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এছাড়া ইলেকট্রিক নৌকা ও নাগরদোলা থেকে ৮০থেকে ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়ার মেলা ভেতরে বসানো হয়েছে লটারির নামে জুয়ার আসর ও মাদকের আসর। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, আয়োজকরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিদিন উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে ও শব্দ করে আশপাশের শব্দ দূষণ করা হচ্ছে। প্রশাসনও তাদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। এ অবৈধ মেলা দ্রুত উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন তারা।
মেলার ব্যবস্থাপক মিঠু মিয়া জানান, তিনি বিভিন্ন এলাকায় মেলায় দোকান বসানোর জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দোকানগুলো নিয়ে আসেন। মেলা বসানোর জায়গা না দিলে মেলা করা সম্ভব না। তবে এ মেলার জায়গা দিয়েছেন সুমন ও তার ভাতিজা আকাশ। তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
মেলার আয়োজক সুমন হক বলেন, মেলার অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের কপিটি থানায় জমা দিয়ে অবগত করা হয়েছে। এখনো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার অনুমতি পাননি। অনুমতি ছাড়া মেলা কিভাবে হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি দেখা করতে অনুরোধ করেন।
কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমি জানান, এ অবৈধ মেলা বন্ধ করতে আমি নিজেই ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ মেলা বন্ধ হওয়া উচিত।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. রাশেদুল হাসান খাঁন বলেন, মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আয়োজকদের ডেকে মেলা বসানোর বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। মেলা বসানোর চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, এ অবৈধ মেলা বসানোর বিষয়ে কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার জমায়েত করার সুযোগ নেই। তবে অবৈধ মেলা উচ্ছেদ করা হবে।
Leave a Reply