
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার গাইড লাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁ সরকারি কলেজ মাঠে কলেজের ৮ শ’ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সোনারগাঁ থানা শাখার নেতৃবৃন্দ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সোনারগাঁ থানার সভাপতি আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি নাজমুস সাকিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল জব্বার।
প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ – সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, অনেক মেধাবীরা সময়ের মূল্য না দেওয়ার কারণে পরবর্তীতে হারিয়ে গেছে। যারা আগামীর দিন গুলোতে ভালো থাকতে চায় তারা অবশ্যই এই কলেজের দুই বছরকে মূল্যায়ণ করতে হবে। যারা এই সময় কে মূল্যায়ন করবে তাদের আগামীর দিন গুলো হবে সম্ভাবনাময়। মোবাইল ফোন আমাদের নিয়ন্ত্রন করবে না আমরা ফোন নিয়ন্ত্রন করব। ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল আমার জন্য কি করবে সেটা বিষয় নয়, আমি একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে ছাত্র শিবির বা ছাত্রদলের কাছে নিরাপদ কিনা সেটাই আসল বিষয়। যদি সেই নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় তাহলে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। একই ভাবে যেই দলের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ থাকবে সেই দলকে দেশের মানুষ এইবার নির্বাচিত করবে।
প্রধান মেহমান হিসেবে প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ লক্ষয করা যায়নি। ২০২৪ শের ৫ আগস্টের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীনতার পর এর আগে কোনদিন সে পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, আমরা শিক্ষার্থীদের উন্নত পড়ালেখার পাশাপাশি আল্লাহর পথে ডাকছি, আমরা শিক্ষার্থীদের জান্নাতের পথে ডাকছি। এটাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কাজ। আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল (স:) প্রদর্শিত জীবন বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলেই কেবল ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা অর্জন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ১ম, ২য় ও ৩য় কাজ হচ্ছে পড়াশোনা করা ও জ্ঞান অর্জন করা। গত পনের বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধংস্ব করে দিয়েছিল। ভারতের প্রেসক্রিপশনে যে শিক্ষা ব্যবস্থা হয়েছিল সে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। পড়ালেখা করা ছাড়াই খুব ভালো রেজাল্ট করা যেত। যেটা একজন শিক্ষার্থীর মেধাশূন্য করে দেয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একজন শিক্ষার্থীকে কিভাবে ভালো মেধাবী ও দক্ষ করে তোলা যায় সেই চিন্তা করে সবসময় যেটা বাংলাদেশের অন্য কোন সংগঠন করে না।
জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান বলেন, যারা জীবনকে সুন্দরভাবে গড়তে চাও ইসলামী ছাত্রশিবির তোমাদের জন্য একটি উন্মুক্ত দ্বার খুলে দিয়েছে। তোমরা যদি ছাত্রশিবিরের রুটিন মাফিক পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারো ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি জীবন কে সফলতার চূড়ায় নিয়ে যেতে পারবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ফাতেমা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপাল ড. আজগর আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ জেলার
সভাপতি মো. আকরাম হোসাইন, সেক্রেটারি হাসিবুল ইসলাম সিফাত, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা সোনারগাঁ থানার সভানেত্রী আছিয়া আক্তার, জামায়াতে ইসলামীর সোনারগাঁ উত্তরের আমীর মাওলানা ইসহাক মিয়া, দক্ষিনের সেক্রেটারি আসাদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিশু শিল্পী রাশেদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে সোনারগাঁ সরকারি কলেজের ৮শ’ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রশিবিরের উপহার প্যাকেট তুলে দেয়া হয়।
Leave a Reply