
হৃদয় হোসাইন,পাবনা সংবাদদাতা:
চিকিৎসক ও ডিজিটাল সরঞ্জাম সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। একটি পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে যেখানে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা সেখানে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে একদিকে যেমন উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা অন্যদিকে অতিরিক্ত চাপে নাজেহাল হয়ে পড়ছে চিকিৎসক’রা। ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের চিকিৎসকের কক্ষে অহেতুক অবস্থান,রোগ পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকের সাথে সাথে যাওয়া ও হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় পরামর্শ পত্র (প্রেসক্রিপশন) দেখতে রোগীর স্বজনদের সাথে ধ্বস্তাধস্তির কারণে নষ্ট হচ্ছে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ।জানা যায়,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বেড়া উপজেলা সদরে অবস্থিত হলেও এখানে বেড়া উপজেলা ছাড়াও অতিরিক্ত ৪ টি উপজেলার বাসিন্দারা চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। ভৌগলিক অবস্থান ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের জনগণ বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলের জনগণের চিকিৎসা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।যেকারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিতে সব সময় লেগে থাকে উপচে পড়া ভিড়। রোগীদের চাপের কথা বিবেচনায় এনে ২০০৬ সালে হাসপাতাল টিকে ৫০ শয্যা রুপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষে ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে অনুমোদনের পর থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ণ চিকিৎসক প্যানেল ও জনবল পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলেন, হাসপাতাল টিতে কোন সময়ই ঠিকমত চিকিৎসক পাওয়া যায় না। যেকারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ,রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধে বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন,৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেখানে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা সেখানে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক রয়েছে। তবে ৪৮তম বিসিএস’র স্বাস্থ্য ক্যাডার গণ যোগদান করলে এই সমস্যা সমাধান হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া হাসপাতালটির অন্যন সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন,আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এবিষয়ে পাবনা জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন,চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ৪৮ তম স্বাস্থ্য ক্যাডার গণ যোগদানের পর অনেকাংশে ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া রোগীর অন্যন অসুবিধা গুলো অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন।
Leave a Reply