হৃদয় হোসাইন,বেড়া প্রতিনিধি:
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পাবনার বেড়ায় যমুনা নদীর উভয় পাড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত কয়েক বছরে শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র,সাবমেরিন ক্যাবল,জামে মসজিদ ও বসতবাড়ি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর,চর সিংহাসন,বক্তারপুর ও নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের নেওলাইপাড়া এলাকায় নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারন করেছে। ভাঙনের কারণে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাব স্টেশন), মসজিদ, বসতবাড়ি এবং ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। নদী ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কল্যাণপুর চর। সেখানে ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কল্যানপুর মসজিদ থেকে মাত্র ৬৬ মিটার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ মিটার, সাবমেরিন ক্যাবল থেকে মাত্র ১৭ মিটার দূরে দিয়ে যমুনা নদী প্রবাহিত হচ্ছ। ক্যাবলটি নদীগর্ভে বিলীন হলে চরের হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া না হলে মসজিদ ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, চলমান ভাঙনে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা মো.তাইজল ইসলাম বলেন, চলমান ভাঙনে আমার প্রায় চার বিঘা আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েক বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। তাইজল ইসলামের মতো একই অবস্থা এলাকার আরও অনেক কৃষকের। স্থানীয়দের ভাষ্য,যমুনার চলমান ভাঙনে মো. শুকুর আলী,মো.কামাল হোসেন,মো.ইসমাইল হোসেন ও হযরত আলীসহ অসংখ্য কৃষকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেকেই তাদের জমিজমা হারিয়ে প্রায় ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। নেওলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,যমুনার ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। সব সময় মনে হয়,কখন না আবার নদীর পাড় ভেঙে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যায়।
পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রেজাউল করিম বলেন, চলমান ভাঙনে শুধু কল্যাণপুর চর এলাকাতেই প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণত বর্ষাকালে উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাতের দরুন নদীর পানি বেড়ে যায় এবং তা প্রচন্ড গতিতে সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়। এসময় উপকূলীয় অঞ্চলের নদীসংলগ্ন স্থলভাগে পানির তীব্র তোড়ে সৃষ্টি হয় নদীভাঙনের।বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ নদীতে ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ হবে। এ ছাড়া নদী পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
হৃদয় হোসাইন
বেড়া (পাবনা) উপজেলা প্রতিনিধি
০১৭৫৩১৪৬৫৯২
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সোনারগাঁও শপিং কমপ্লেক্স ৪র্থ তলা, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশক
ও সম্পাদক: মোঃ ইমরান হোসেন
মোবাইল
: 01822219555
মেইল
: emranhossain9555gmail.com
বার্তা
সম্পাদক : মোঃ পারভেজ হোসেন
মোবাইল
: 01826178999
মেইল : parvezoks@gmail.com
Copyright © 2026 দেশ প্রকাশ. All rights reserved.