হৃদয় হোসাইন,নিজস্ব সংবাদদাতা:
পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) সংসদীয় আসন সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন পাবনার বেড়াবাসী ও সাঁথিয়ার একাংশ। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে পাবনা-১ আসনের শতশত ভোটার জড়ো হন। এসময় তারা ‘ইসির অবৈধ গেজেট মানি না,মানব না’; ‘পাবনার সাঁথিয়া-বেড়া ভাই ভাই,বিভক্তি মানি না’ এমন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ কারীরা জানান,পাবনা-১ সংসদীয় আসনের বেড়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণে পক্ষে আমাদের আসনের সীমানা পুনর্বহালের দাবি নিয়ে এখানে এসেছি। বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের দূরত্ব ৮ কিলোমিটারেরও কম। অপরদিকে বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সুজানগর উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৩৮-৪০ কিলোমিটার। সুতরাং ভৌগোলিক বাস্তবতায় সাঁথিয়ার সাথেই বেড়ার সংযোগ সবচেয়ে যৌক্তিক। এসময় তারা সাঁথিয়া ও বেড়া (আংশিক) পুনর্বহালের জন্য ৭ কারণ তুলে ধরেন। ১. ভৌগোলিক নিকটবর্তিতা: বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের দূরত্ব ৮ কিলোমিটারের কম। অপরদিকে বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সুজানগর উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৩৮-৪০ কিলোমিটার। সুতরাং ভৌগোলিক বাস্তবতায় সাঁথিয়ার সাথেই বেড়ার সংযোগ সবচেয়ে যৌক্তিক। ২. ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য: সাঁথিয়া (১০টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা) ভোটার সংখ্যা: ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৮ জন। এই সংখ্যা নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে বেড়া-সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৬৭ জন, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অতিরিক্ত। ৩. নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা: নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী ভোটার পার্থক্য সর্বোচ্চ ৩০% এর মধ্যে থাকতে হবে। বেড়া ও সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪০% বেশি হয়ে যায়, যা নীতিমালা বহির্ভূত। ৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিল: সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার জনগণের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা এক ও অভিন্ন। তাই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সাঁথিয়া-বেড়া সংযুক্তিই যৌক্তিক। ৫. নদী বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: বেড়া উপজেলায় ৩টি প্রধান নদীবন্দর রয়েছে: বেড়া পোর্ট, নগরবাড়ি ঘাট, কাজিরহাট ঘাট, পূর্বের সীমানায় ১টি বন্দর পাবনা-১ এ এবং ২টি বন্দর পাবনা-২ এ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ভারসাম্যপূর্ণ। যদি সুজানগরের সাথে বেড়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়ন যুক্ত করে দিলে ৩টি নদী বন্দরই পাবনা-২ সুজানগর এ চলে যায়, অপর দিকে সাঁথিয়া উপজেলার কোনও নদী বন্দর থাকে না যার কারণে কোনও উন্নয়ন হবে না। সাঁথিয়ার সাথে বেড়ার সড়ক যোগযাযোগ দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার আর বেড়া উপজেলা থেকে সুজানগর উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার সুতরাং একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য, তাই প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কাজ করা খুবই কষ্টকর। ৬. প্রশাসনিক ভারসাম্য: বেড়া আংশিক সুজানগর উপজেলার সাথে যুক্ত হলে সুজানগরে ২টি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন হবে, অপরদিকে সাঁথিয়া উপজেলাতে মাত্র ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। যা সুজানগর উপজেলার অর্ধেক হয়। সুতরাং সাঁথিয়া উপজেলার চেয়ে সুজানগর উপজেলা দ্বিগুণ হয় যা কোনোমতেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে প্রশাসনিক সেবায় অসামঞ্জস্যতা তৈরি হবে। ৭. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: অতীতেও ৪০ বছরের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশন গোলক বাস্তবতা, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে পাবনা-১ (সাঁথিয়া বেড়া আংশিক) ও পাবনা-২ (সুজানগর+বেড়া আংশিক) নির্ধারণ করেছিল। এলাকাবাসী জানান, ভৌগোলিক অবস্থান, ভোটার ভারসাম্য, নীতিমালা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, নদী বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় সাঁথিয়া আংশিক বেড়া পুনর্বহালই একমাত্র যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান। এসময় সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক শামসুন্নাহার মিরু সহ বেড়া উপজেলার সচেতন ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সোনারগাঁও শপিং কমপ্লেক্স ৪র্থ তলা, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশক
ও সম্পাদক: মোঃ ইমরান হোসেন
মোবাইল
: 01822219555
মেইল
: emranhossain9555gmail.com
বার্তা
সম্পাদক : মোঃ পারভেজ হোসেন
মোবাইল
: 01826178999
মেইল : parvezoks@gmail.com
Copyright © 2026 দেশ প্রকাশ. All rights reserved.